পাবনা মুসলিম কমিউনিটি

আল-হিকমাহ একাডেমী কী ও কেন


শিক্ষা যদি হয় জাতির মেরুদন্ড, তবে দ্বীনি শিক্ষা জাতির প্রাণ। জাতির মুক্তির জন্য প্রয়োজন প্রান্তিকতামুক্ত দ্বীনি ইলম ও জাগতিক শিক্ষার সমন্বিত একটি বহুমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা যেখানে শিশু তার মৌলিক অধিকার দ্বীনী ইলম অর্জন করবে আবার জাগতিক শিক্ষাও লাভ করবে। দ্বীনহীন জাগতিক শিক্ষা জাতিকে প্রাণহীন বানিয়ে দেয়, অপরদিকে কর্মবিমুখ দ্বীনি শিক্ষা জাতিকে অকর্মণ্য গড়ে তোলে।

আমরা আলোকিত আদর্শ প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ার প্রত্যয়ে পাবনার কাশিনাথপুরে প্রতিষ্ঠা করেছি আল-হিকমাহ একাডেমী। আমাদের অন্যতম একটি লক্ষ্য হচ্ছে আমাদের শিশুরা কর্মমুখর, যোগ্য, আত্মপ্রত্যয়ী, আত্মনির্ভরশীল, দা'ঈ, মুমিন-মুহসীন এবং মুত্তাকিনদের ইমাম হিসেবে গড়ে উঠবে ইনশাআল্লাহ

আমরা আমাদের লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে শিক্ষা ও দীক্ষার মাঝে সমন্বয় রেখে সবচেয়ে ফলপ্রসূ সিলেবাস ও সহজতর পাঠদান পদ্ধতি গ্রহণে বিশ্বাসী। আমরা বিশ্বাস করি শিশুর মেধাবিকাশ ও মানবীয় গুণাবলীর উৎকর্ষ সাধনের জন্য উপযুক্ত পরিবেশের কোন বিকল্প নেই, ফলে আমরা আল-হিকমাহ একাডেমীতে একটি শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ সর্বদা বজায় রাখতে দৃঢ় প্রত্যয়ী ।

লক্ষ্য-উদ্দেশ্য


আল-হিকমাহ একাডেমী হয়ে উঠবে শিশুদের জন্য শিক্ষা-দীক্ষার একটি প্রাণকেন্দ্র, যেখানে তারা কোরআন সুন্নাহর ইলম অর্জনের পাশাপাশি একবিংশ শতাব্দীর প্রয়োজনীয় জ্ঞান সমূহ থেকেও পিছিয়ে থাকবে না। শিক্ষার্থীদের আত্মগঠন ও আত্মউন্নয়নে ভূমিকা রাখা এবং সুষ্ঠু সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে চলা আমাদের লক্ষ্য।

কাদের জন্য এ প্রতিষ্ঠান?


১। সে সমস্ত অভিভাবকগণের জন্য যারা তাদের সন্তানকে শৈশব থেকেই দ্বীনি পরিবেশে গড়ে তুলতে চান, দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি প্রদান করতে চান জাগতিক শিক্ষা।

২। সে সমস্ত অভিভাবকগণের জন্য যারা তাদের সন্তানকে যুগ সচেতন, যোগ্য, পরিশ্রমী হিসেবে দেখতে চান।

শিক্ষা পরিকল্পনা ও কার্যক্রম

নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেনি


১। নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মাতৃভাষার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়। শিশুর শৈশবের পার্ট যদি সেকেন্ড ল্যাংগুয়েজ মিডিয়ামে আরম্ভ হয় তবে মাতৃভাষা তারা আবেদন হারিয়ে ফেলে। তাই, শুরু থেকেই শুদ্ধ বাংলা ভাষার প্রতি আমরা গুরুত্বারোপ করি।

২। একটি শিশুকে কোরআন মাজীদ তেলাওয়াত শুদ্ধভাবে শিখিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে হিফজের সম্পূর্ণ উপযোগী করে গড়ে তুলতে আমরা সচেষ্ট থাকি। পাশাপাশি আমাদের প্রচেষ্টা থাকে শিশুদের সাথে যেন কোরআনের ভাষার প্রাথমিক সখ্যতা গড়ে ওঠে, যেন সালাতে কোরআনের অর্থ অনুধাবন করতে পারে।

৩। মৌলিক বিষয়ের বই (যেমনঃ বাংলা ,ইংরেজি ,গণিত, বিজ্ঞান) এর সাথে স্পোকেন ইংলিশ ও আরবী এর উপরে গুরুত্তারোপ।

৪। শিশুদেরকে গল্পে গল্পে আকিদা সিরাত ও হাদিসের পাঠদান করা হয়। প্র্যাকটিক্যালি তাদেরকে আদব-শিষ্টাচার, দোয়া ও মাসাআলা শিক্ষাদান করা হয়।

৫। এক্সট্রা কারিকুলাম এক্টিভিটি:

  • Medical Lab (মেডিক্যাল ইকুইপমেন্টের সাথে প্রাক্টিক্যালি পরিচিত হবে ইনশাআল্লাহ।)
  • Coding (কিডস কোডিং এর জন্য রয়েছে Scratch Jr. coding কোর্স)
  • Gardening (গাছ লাগানো, কলম করা, আগাছা পরিস্কার, সার তৈরি ইত্যাদি)
  • Kids Martial Art

আমলী সূরাসমূহ মুখস্ত


  • সূরা ইয়াসিন
  • সূরা ওয়াকিয়াহ
  • সূরা মূলক
  • ৩০ তম পারা

বৈশিষ্ট্যসমূহ


১। দ্বীনি ইলম ও জাগতিক শিক্ষার সমন্বিত সিলেবাস।

২। শিক্ষা দীক্ষা তাসকিয়া ও তারবিয়ার যথাসাধ্য সমন্বয়।

৩। শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান।

৪। আখলাকের উন্নয়ন ও মানবীয় গুণাবলী বিকাশের পরিবেশ সুনিশ্চিত করন।

৫। পাঠের পাশাপাশি প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে সুস্থ বিনোদন ও ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার ব্যবস্থা।

৬। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে আচার-আচরণ, মানবীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতির পরিচর্যা।

৭। দৃঢ় মনোবল, আত্মমর্যাদাবোধ, ও আদর্শ ব্যক্তিত্ব গঠনের পাশাপাশি সেবা ও দাওয়ার মনোভাব সৃষ্টি।

পরীক্ষা ও পাঠদান পদ্ধতি


১। শিক্ষার গুরুত্ব প্রথমে শিক্ষার্থীকে অনুধাবন করানো।

২। শিক্ষার্থীর ধারণক্ষমতা, মেজাজ অনুযায়ী তাকে আরো সামর্থবান ও যোগ্য করে তোলা।

৩। শিক্ষার বাস্তবায়নের দিক শিক্ষার্থীর সামনে তুলে ধরা।

৪। এক বছরে দুইটি সেমিস্টার। এক একটি সেমিস্টারে একেকটি মিডটার্ম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

৫। এছাড়াও নিয়মিত সাপ্তাহিক বা মাসিক পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকবে ইনশাআল্লাহ।

৬। ক্লাসের মাঝে বিরতি যেন শিক্ষার্থী বিরক্ত না হয়ে উঠে।

৭। মুখস্থ নির্ভর শিক্ষা পরিহার। বোখারী শরীফে ইবনে আবী মুলায়কা থেকে বর্ণিত আছে - তিনি বলেন , নবী (স:) এর স্ত্রী আয়েশা (রা) কোন বিষয়বস্তু শোনার পর না বুঝলে জিজ্ঞেস করে তা বুঝে নিতেন (সংক্ষেপিত)

৮। আবশ্যিক মুখস্তর বিষয়কে যেভাবে পড়ানো হবে ইনশাআল্লাহ।

  • পুনরাবৃত্তি ও পর্যালোচনা
  • মুখস্ত রাখার ফাজায়েল জানানো ( হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, আমরা হাদিস মুখস্ত করতাম, আর রাসূল (স.) থেকে হাদিস মুখস্থ করারই বিষয়। অর্থাৎ এ ভাবেই হাদিস সংরক্ষণ করা হত।
  • সংগঠন পদ্ধতি গ্রহণ
  • সংযোজন পদ্ধতি গ্রহণ

ছুটি


প্রকৃত অর্থে তালেবুল ইলমের কোন ছুটি নেই এবং ইলম অন্বেষণের পথে চলার কোন অবকাশ নেই।

  • একেক ঈদে ১৩ দিন
  • সেমিস্টার পরীক্ষার পর ১০ দিন
  • মিডটার্মের পর ৭ দিন
  • জুমাবার
  • সরকারীভাবে বাধ্যতামূলক ছুটির দিনগুলোতে ছুটি থাকে

ভর্তি প্রক্রিয়া


প্রতি বছরের জানুয়ারী মাসে।